home
↓ চেয়ারম্যান এর বানী ↓

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

বিদ্যুৎ সভ্যতার চাবিকাঠি এবং আর্থ সামাজিক উন্নয়নের পথিকৃত। এ বাস্তবতাকে উপলব্ধি করে দেশের গ্রামীণ জনগণের জীবনমান ও আর্থ সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ৩০শে অক্টোবর ১৯৭৭ সালে সরকার পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেন। সমবায়ের সার্বজনীন নীতিমালা এবং 'লাভ নয় লোকসান নয়' এ দর্শনের উপর ভিত্তি করে এবং গ্রাহকগণকে সমিতির প্রকৃত মালিকানার স্বীকৃতি দিয়ে এ যাবত দেশের ৪২৫টি উপজেলার সমন্বয়ে ৭০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি গঠিত হয়েছে। পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের আওতাভুক্ত এলাকায় জুন/২০১১ইং পর্যন্ত ২,২৭,৬০৫ কিঃমিঃ বিদ্যুৎ বিতরণ লাইন এবং ৪৩৩ টি বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র নির্মাণ করে ৪৮,৭৭০ টি গ্রামে ৮৩,৬২,০৯৭ জন বিভিন্ন শ্রেণীর গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। সংযোগকৃত গ্রাহকের মধ্যে ১,৩৪,১০২ টি শিল্প সংযোগ ও ২,৪৩,৪৩১ টি সেচ সংযোগ রয়েছে যার মাধ্যমে একদিকে যেমন বিপুল পরিমাণে গ্রামীণ জনগোষ্ঠির কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচনের ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে অন্যদিকে তেমনি অধিক ফসল উৎপাদনে পল্লী বিদ্যুতায়ন কর্মসূচী প্রভূত অবদান রেখে চলেছে। ৭২,০৬,১৮২ টি আবাসিক সংযোগ প্রদানের ফলে আনুমানিক ৩ কোটি ৬০ লক্ষ জন ব্যক্তি পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে বিদ্যুতের সুবিধা ভোগ করছেন। পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের ইতিবাচক প্রভাব বিদ্যুতায়িত এলাকার সকল ক্ষেত্রে সুস্পষ্টভাবে প্রতিভাত হচ্ছে। পল্লী অঞ্চলের জনসাধারণের একাংশ যেমন বিদ্যুতের আলোকে উদ্ভাসিত হয়েছেন, অন্য অংশ- যারা বিদ্যুতের সুবিধা প্রত্যাশী তারা- পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিসমূহে বিদ্যুৎ প্রাপ্তির সম্ভাবনার বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। তাদের চাহিদার প্রতি আমরা সচেতন। এ লক্ষ্যে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ও সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সকল শ্রেণীর গ্রাহকদের বক্তব্য শ্রবণ করে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। গ্রামীণ জনগণের মুখে হাসি ফুটানোর জন্যই এ কার্যক্রমের সূচনা করা হয়েছিল সে হাসি যেন ম্লান না হয় সেদিকে আমাদের সর্বদা সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যক্রম পরিচালনার সকল ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সততা ও একনিষ্ঠতা বজায় রাখতে হবে। আমি অবগত হয়েছি যে, চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ ১৯৮৬ সালে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ বিতরণ শুরু করেছে। এ সমিতিতে জুন ২০১১ ইং পর্যন্ত ২৯৯৬.৬৪৯ কিঃ মিঃ লাইন নির্মাণ করে মোট ১,৫৯,৮৯২ জন গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। বিগত বৎসর সমূহে খুচরা বিক্রয় মূল্যের তুলনায় পাইকারী বিক্রয় মূল্যের হার অধিকতর হওয়ায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পরিচালনায় আর্থিক ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এ সমস্যা উত্তরণের জন্য পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের তরফ থেকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সিষ্টেম লস কমিয়ে ও বিদ্যুতের চুরি রোধ করে পরিচালন ব্যয়ের ঘাটতি মোকাবিলার লক্ষ্যে সমিতির কর্মকর্তা/ কর্মচারী/ বোর্ড পরিচালক/ গ্রাহক সদস্যবৃন্দকেও সম্মিলিত প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে হবে। আজকে সমিতির ২৪তম বার্ষিক সদস্য সভায় সমিতির সর্বস্তরের গ্রাহক সদস্যদের উন্নত সেবা প্রদান, গ্রাহকদের সমস্যার সমাধান এবং অধিক সংখ্যক গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করার চেতনায় সকলের সমন্বিত দৃপ্ত অঙ্গীকার ঘোষিত হবে-এ কামনা করছি। গ্রাহক সদস্যগণকে আহ্‌বান জানাচ্ছি যেন সমিতির উত্তরোত্তর উন্নয়নে স্ব স্ব ক্ষেত্র থেকে তাঁরা সকল সময়ে সহযোগিতার হাত প্রসারিত রাখেন। আমি চট্টগ্রাম পবিস-২ এর ২৪তম সভায় সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করছি এবং মহান আল্ল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি যেন তিনি সকল ক্ষেত্রে আমাদের সহায় হোন।

 

(মেজর জেনারেল মঈন উদ্দিন)
চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড।